Sunday, February 24, 2019

না বলা কথা।

1:44 PM No Comments

কালকেও একমাস ছিলো আর আজ ২৯ দিন বাকি! সাহেদের দিন কি দ্রুতই কেটে যাচ্ছে? অথচ গত দেড় বছর ধরে এক একটা দিন কে মনে হতো এক একটা বছর। আর এখন দিন গুলোকে মনে হয় ঘন্টা ঘন্টায় শেষ হয়ে যাচ্ছে। সকালে ফজরের নামাজ পড়ে অনেকক্ষন কোরআন শরীফ তেলোয়াত করলো। এই একটা গুন জন্মসুত্রেই পেয়েগেছে মনে হয় সাহেদ। বাবার মতোই খুব দরদি গলা আর তেলোয়াত ও করে একেবারে ভিতর থেকে। পাশের রুমে থাকা কালিপদ প্রতিদিন সকালে সাহেদের তেলোয়াত গভীর মনোযোগ দিয়ে শুনে। যদিও এর অর্থ কিছু বুঝেনা তবে ভিতর থেকে একটা ভালোলাগা এসেই যায়।

ভোরেই সাহেদ গোসল সেরে ফেলেছে, একরকম প্রস্তুত হয়েই আছে, আজ তার ভিষন আনন্দের দিন। আজ প্রায় দুই মাসপর দেখা হবে রাদিফ এর সাথে। ছেলেটা দেখতে দেখতে কেমন বড় হয়ে যাচ্ছে। আর কয়দিন পরেই সাহেদকেও ছাড়িয়ে যাবে লম্বায়। বয়স কত হলো? ১৬! অথচ মনে হয় মাত্র সেদিন ডাক্তার এসে বললেন নিন আপনার রাজপুত্রকে কোলে নিন।

সেদিনের কথা মনে হতেই চোখের কোনটা বরাবরের মতই ভিজে উঠলো। সেই ছোট্ট ছেলেটাই নাকি এখন কলেজ যাচ্ছে? দিন কি করে চলে যায়?

২৯ দিনে আর কতবারই বা দেখা হবে? কত কথা বলার ছিলো রাদিফ কে। সব কি বলা যাবে? লিখে যেতে চেষ্টা করছে সব না বলা কথাগুলো। সেই তিন বছর বয়সে একবার রাদিফের মার খুব জ্বর, তখন হরতাল আর অবরোধে দেশ প্রায় অচল। সাহেদ অফিসের কাজে ঢাকার বাহিরে গিয়ে আটকে গিয়েছিলো। ফরিদা পাশের বাসা থেকে ফোন করে জানানোর পরেও আসা হয়নি সাহেদের। তিন দিনপর এসে দেখে ফরিদা কেমন হয়ে গেছে। চেনা যাচ্ছেনা, মনে হচ্ছে শরীরে রক্ত নেই, ফ্যাকাসে। ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাবার পরেও সাহেদ পারেনি তার ফরিদাকে বাঁচাতে! প্রচন্ড নিউমোনিয়া সাথে ওর আগে থেকেই রক্তশুন্যতা ছিলো। পারেনি অসিম সাহসী মেয়েটা রোগের সাথে পাল্লা দিয়ে বাঁচতে।
সেই থেকে রাদিফকে নিয়েই বেঁচে থাকা সাহেদের। প্রতিটা দিন প্রতিটা রাত কেটেছে আনন্দে আর যন্ত্রনায়। কত স্বপ্ন আর কত স্বপ্নভঙ্গ এর সাক্ষী সেইসব দিন কেমন ফিকে হয়ে গেলো? কিন্তু সব বদলে গেলো এক মুহূর্তে। দুই বছর আগের কথা। রাদিফের বন্ধু জনি সবসময় বাজে কথা বলতো, ওর বাবা নাকি ওর মাকে মেরে ফেলেছে। মা এর কথা মনেই পরেনা রাদিফের, তারপরেও কেমন কান্না পেতো, রাগ হতো খুব। কেন মা ওকে ফেলে চলে গেছে? রাদিফ ছোট বেলা থেকেই বাবা ছাড়া কিছুই বুঝতে চাইতোনা। আর কেউ তার বাবাকে নিয়ে কিছু বললেই ভিতরে কেমন ক্রোধ জেগে উঠে সবসময়। জনি কে এর মধ্যে সে অনেকদিন পিটিয়েছে বাজে কথা বলায়, তারপরেও জনি ওকে রাগাতে বাজে কথা বলেই যেত।

সেদিন সন্ধ্যায় জনি ওদের বাসার ছাদে খুব বাজে ভাবে ওর বাবকে গালি দেয়ায় আর রাগ সামলে রাখতে পারলোনা রাদিফ। অনেক জোড়ে ধাক্কা দিলো, জনি ভারসাম্য না রাখতে পেরে ছাদ থেকে পিছলিয়ে নীচে পরে গেলো। রাদিফ ছুটতে ছুটতে বাবার কাছে এসে বাবাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে লাগলো, কিছুই বলতে পারছিলো না। সাহেদ নিজের বুকে চেপে ধরে রাদিফ কে একটাই কথা বললো, আমি থাকতে আমার ছেলের কিছুই হবে না। সব শুনে সাহেদ ঠান্ডা মাথায় চিন্তা করে রাদিফ কে বোঝালো ও কিছুই জানেনা। সাহেদ এর সাথে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে ধাক্কা লেগে জনি পা পিছলে ছাদ থেকে পরে গেছে।

দুই বছরে অনেক কিছুই ঘটে গেলো। পুলিশ, আদালত, জেল, গত মাসেই রায় হলো মৃত্যুদন্ডের। সাহেদ সব মাথা পেতে নিলো, রাদিফ কে বাঁচাতে সব করতে পারে সাহেদ। রাদিফ অনেক চেষ্টা করেও পারেনি সত্যকে প্রমান করতে।

আজ রাদিফ তার খালার সাথে আসছে বাবাকে দেখতে। ওরা দুজন ছাড়া শুধু রানু খালা সব জানে, রানু নিজেই দায়িত্ব নিয়েছে রাদিফের।

সাহেদ এখন নিশ্চিন্ত। একটাই কাজ বাকী এখনো, সময় বেশি নেই হাতে! অনেক না বলা কথা লিখে যেতে হবে রাদিফের জন্য।
Read More...


একুশ মানেই

1:41 PM No Comments

একুশ মানেই খোলা জানালা
একুশ মানেই নীল আকাশ
একুশ মানেই কথার মালা
ভাবনা জুড়ে স্মৃতির আভাস

একুশ মানেই মায়ের ভাষা
একুশ মানেই দীপ্ত স্লোগান
একুশ মানেই নতুন আশা
হৃদয় জুড়ে প্রেমেরই গান

একুশ মানেই নতুন সকাল
একুশ মানেই জীবন নদী
একুশ মানেই ভাঙবো দেয়াল
বাংলা বুকে নিরবধি।।
Read More...


হারিয়ে শেখা।

1:40 PM No Comments

 তের বছর বয়সের সেই ঘটনা সবকিছুই কেমন বদলে দিয়েছে! ক্লাস সেভেনে পড়তো কমল। বাবার সাথে বৈশাখী মেলায় গিয়েছিল সেবার। রেললাইনের দুপাশে মেলা বেশ জমেছিলো। ডুগডুগি, বাঁশি, কদমা, মুড়কী দিয়ে দু হাত ভরা। রেললাইনে হাটছিলো, কখন পেছনে থেকে দ্রুতগামী ট্রেন আসছিলো খেয়াল করেনি। বাবা শেষ মূহুর্তে এসে কমল কে ধাক্কা দিয়ে সরাতে চেষ্টা করলেন কিন্তু নিজেই সরতে পারলেন না।
হাসপাতাল থেকে দুই মাসপর বাড়ি ফিরলো কমল। বাবার মৃত্যুতে ওর স্কুল যাওয়া বন্ধ হয়ে গেলো, সংসারের সব দায়িত্ব কাঁধে চাপলো। বর্ণমালার বই হাতে নিয়ে ঘুরে বেড়ায় রেলস্টেশনে। সাথে বিনাপয়সায় দেয় স্বহস্তে লিখা একটা বই "হারিয়ে শিখেছি, নিরাপদে চলুন"।
মসজিদের মেঝেতে যোহরের নামাজ পড়ছে কমল, পাশে দাঁড়করানো তার আর্টিফিশিয়াল পা জোড়া!

Read More...


শুদ্ধ পুরুষ!!

1:38 PM No Comments

কোন এক শীতের মধ্য রাতে আমার আগমন
কানে এসেছিলো প্রথমেই সে সুমধুর আযান
বাবা! পুরুষ কন্ঠে আল্লাহু আকবর.. লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ
শুনে অনুভব করেছি মা ছাড়াও আছেন অন্য কেহ!

মায়ের স্তন পান করে বেড়ে উঠেছি শিশু থেকে বালক
স্তনকে ভাবিনি অন্য কিছু! বালক থেকে যুবক
তারপর সমাজ! আমার সমাজে শুধুই পুরুষের বসবাস
মেয়ে? সে আবার কে? পাইনি তাদের বুঝবার অবকাশ।

সমাজ শিখিয়েছে ওরা নারী, দাবিয়ে রাখো ওদের
নয়তো হারাবে পুরুষত্ব! শাসন শোষণ যাবে পাগাড়
দেখিয়েছে, ওদের কর ভোগ, করো পিষ্ট পদতলে
ছুঁয়েছি শরীর, ছুঁই নিকো মন। সব গেছে রসাতলে।

নারীর শরীর শুধুই দেবে পুরুষকে আনন্দ আর মৌজ
বুঝিনি, এই শরীরের সম্মানে বাড়বে নিজেরই তাজ
মেয়ে ছেলে বলতে গিয়েও লাগেনি কখনো ধাক্কা!
মেয়েকে মানুষ ভাবতে কেটেছে! যুগের পর যুগ পাক্কা।

আমি এখনও পুরুষই আছি, হই নি কো মানুষ!
সমাজ আমায় প্রতি পদক্ষেপে বানায় রঙিন ফানুশ
আমি আজো দেই না সম্মান, হই নি পুরো শুদ্ধ!
চিন্তা চেতনা পরিবর্তনের দরজা রয়েছে! অবরুদ্ধ।

চাচ্ছি ভীষণ মানুষ হবার, শুদ্ধ হবার, যোগ্য হবার
এই জীবনে সকাল সাঁঝে পথচলার সাথী হবার
মনের ভিতর না বোঝা সব একটু না হয় বুঝিয়ে দিও
তোমার আমি তোমার মতোই বিশুদ্ধতায় মন রাঙিয়ো।
Read More...


Rakib Shams Copyright © 2013
Powered by Blogger Published.. Blogger Templates