প্রায় তের বছর আগের কথা। ভাইয়ার বন্ধু নাসের ভাই (উনিও ডাক্তার) হঠাৎ সকাল বেলা ফোন দিলেন। শুভ্র তুমি কোথায়? আমি অফিসের জন্য রেডি হচ্ছিলাম। তখন আমার অফিস ছিল সিলভার টাওয়ার, গুলশান-১। আর আমরা থাকতাম শ্যামলী ১ নাম্বার রোডে। ভাইয়াকে বলতেই উনি বললেন, তুমি লাস্ট রক্ত কবে দিয়েছ? ছয় মাসের বেশি বলতেই তাড়াতাড়ি বিএসএমএমিউ (পিজি হয়াসপাতাল) তে আসতে বললেন। জরুরী রক্ত লাগবে ওনার কলিগ ডেঙ্গু আক্রান্ত। খুব দ্রুত প্লাটিনাট ফল করছে।
আমিও গাড়ি নিয়ে ছুটলাম শাহবাগ এর দিকে। গিয়ে রক্ত দিলাম। এর মধ্যে শুরু হলো প্রচন্ড বৃষ্টি। অনেকেরই মনে থাকার কথা তখন প্রায় তিন দিন অবিরাম বর্ষন হয়েছিল। ঢাকার রাস্তা সব পানিতে তলিয়ে গিয়েছিল। বেসমেন্টে পার্কিং করা বহু গাড়ীর ইঞ্জিন বিকল হয়ে গিয়েছিল। আর গাড়ীর ভিতরে পানি ঢুকে যাচ্ছে তাই অবস্থা।
আমি রক্ত দিয়ে অফিসে যাওয়ার পথে সব রাস্তায় পানি। কি করি? গাড়ি রাস্তায় বন্ধ হলে আর উপায় থাকবে না। অনেক সিএনজি রাস্তায় বন্ধ হয়ে পরে থাকতে দেখলাম। পিক আপ ধরে রেখে অনেক কষ্টে প্রায় ভাসতে ভাসতে অফিসে গিয়ে পৌছালাম। বাসায় যেতেও খুব সময়া হয়েছিল। তবে রক্ত দেয়ায় আসতে আসতে প্লাটিনাট বাড়তে শুরু করলো। নাসের ভাইয়ের কলিগের শরীর ভাল হবার পাশাপাশি আমার মনটাও দারুন ভাল হয়ে গেল।
আরেকবার রাত প্রায় এগারোটা বাজে এমন সময় জুয়েল ভাই ফোন দিলেন, রাকিব এ পজিটিভ রক্ত আছে কারো? আমার বোনের ডেলিভারি হবে। ওর রক্ত শুন্যতা আবার প্রেসার বেশি। ডাক্তার বলেছেন তিন ব্যগ রক্ত রেডি রাখতে। আমার ছোট বোনের রক্তের গ্রুপ এ পজেটিভ। ওকে নিয়ে ছুটলাম মগবাজারের দিকে। আপুর বাবু হলো, রক্ত দেয়া হলো। ভাল আছেন তারা।
রক্ত দিলে ক্ষতির চেয়ে উপকার অনেক বেশি। সবচেয়ে বড় উপকার মানসিক শান্তি। লাখ টাকা দিয়েও আপনি এই শান্তি পাবেন না। যখন ভাবি একজন মুমূর্ষু রোগীর দেহে আমার রক্ত প্রবাহিত হচ্ছে এবং তিনি সুস্থ আছেন, তখন নিজের শরীরেও ভাল লাগা ছেয়ে থাকে।
* প্রতি চার মাস পরপর রক্ত দেয়া যায় (রক্তের সেল আড়াই মাস পর এমনিতেই নষ্ট হয়ে যায়)।
* রক্ত দিলে ব্লাড প্রেসার, স্ট্রোক এর মত রোগ কম হয়।
* মানসিক প্রশান্তি মেলে।
* রক্ত দান ধর্মে নিষেধ নেই।
কেনা রক্ত নিয়ে সবসময় একটা ভয় কাজ করে। বরং আমরা যদি আমাদের আত্মীয়দের প্রয়োজনে নিজেরাই রক্ত দেই তা অনেক বেশী নিরাপদ। আমরাই পারি রক্ত দিয়ে একটা জীবন আরো কিছু দিন বাঁচিয়ে রাখার উছিলা হতে। আমাদের একটু চেষ্টা অনেকের জন্যেই অনেক বড় পাওয়া হতে পারে!
রক্ত দিয়ে আমি আনন্দ পাই সাথে প্রশান্তি।
আসুন আমরা সবাই স্বেচ্ছায় রক্ত দান করি।
আমি গতকালেরটা সহ বাইশ বার রক্ত দিয়েছি। আপনি কতবার দিয়েছেন?
আমিও গাড়ি নিয়ে ছুটলাম শাহবাগ এর দিকে। গিয়ে রক্ত দিলাম। এর মধ্যে শুরু হলো প্রচন্ড বৃষ্টি। অনেকেরই মনে থাকার কথা তখন প্রায় তিন দিন অবিরাম বর্ষন হয়েছিল। ঢাকার রাস্তা সব পানিতে তলিয়ে গিয়েছিল। বেসমেন্টে পার্কিং করা বহু গাড়ীর ইঞ্জিন বিকল হয়ে গিয়েছিল। আর গাড়ীর ভিতরে পানি ঢুকে যাচ্ছে তাই অবস্থা।
আমি রক্ত দিয়ে অফিসে যাওয়ার পথে সব রাস্তায় পানি। কি করি? গাড়ি রাস্তায় বন্ধ হলে আর উপায় থাকবে না। অনেক সিএনজি রাস্তায় বন্ধ হয়ে পরে থাকতে দেখলাম। পিক আপ ধরে রেখে অনেক কষ্টে প্রায় ভাসতে ভাসতে অফিসে গিয়ে পৌছালাম। বাসায় যেতেও খুব সময়া হয়েছিল। তবে রক্ত দেয়ায় আসতে আসতে প্লাটিনাট বাড়তে শুরু করলো। নাসের ভাইয়ের কলিগের শরীর ভাল হবার পাশাপাশি আমার মনটাও দারুন ভাল হয়ে গেল।
আরেকবার রাত প্রায় এগারোটা বাজে এমন সময় জুয়েল ভাই ফোন দিলেন, রাকিব এ পজিটিভ রক্ত আছে কারো? আমার বোনের ডেলিভারি হবে। ওর রক্ত শুন্যতা আবার প্রেসার বেশি। ডাক্তার বলেছেন তিন ব্যগ রক্ত রেডি রাখতে। আমার ছোট বোনের রক্তের গ্রুপ এ পজেটিভ। ওকে নিয়ে ছুটলাম মগবাজারের দিকে। আপুর বাবু হলো, রক্ত দেয়া হলো। ভাল আছেন তারা।
রক্ত দিলে ক্ষতির চেয়ে উপকার অনেক বেশি। সবচেয়ে বড় উপকার মানসিক শান্তি। লাখ টাকা দিয়েও আপনি এই শান্তি পাবেন না। যখন ভাবি একজন মুমূর্ষু রোগীর দেহে আমার রক্ত প্রবাহিত হচ্ছে এবং তিনি সুস্থ আছেন, তখন নিজের শরীরেও ভাল লাগা ছেয়ে থাকে।
* প্রতি চার মাস পরপর রক্ত দেয়া যায় (রক্তের সেল আড়াই মাস পর এমনিতেই নষ্ট হয়ে যায়)।
* রক্ত দিলে ব্লাড প্রেসার, স্ট্রোক এর মত রোগ কম হয়।
* মানসিক প্রশান্তি মেলে।
* রক্ত দান ধর্মে নিষেধ নেই।
কেনা রক্ত নিয়ে সবসময় একটা ভয় কাজ করে। বরং আমরা যদি আমাদের আত্মীয়দের প্রয়োজনে নিজেরাই রক্ত দেই তা অনেক বেশী নিরাপদ। আমরাই পারি রক্ত দিয়ে একটা জীবন আরো কিছু দিন বাঁচিয়ে রাখার উছিলা হতে। আমাদের একটু চেষ্টা অনেকের জন্যেই অনেক বড় পাওয়া হতে পারে!
রক্ত দিয়ে আমি আনন্দ পাই সাথে প্রশান্তি।
আসুন আমরা সবাই স্বেচ্ছায় রক্ত দান করি।
আমি গতকালেরটা সহ বাইশ বার রক্ত দিয়েছি। আপনি কতবার দিয়েছেন?
0 comments:
Post a Comment